মু্ক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পরিকল্পনা

আজ আমি যে বিষয় নিয়ে লিখছি সেটি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভাবছিলাম। একমাত্র তাদের জন্যই আজ আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন মাটিতে দাড়িয়ে আছি , দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে জীবন মৃত্যুর চিন্তাভাবনা না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া অনেক বড় ব্যাপার। অথচ তারা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে যে বাংলাদেশকে পাবার স্বপ্ন দেখেছিলেন আমরা কি তাদের সেই বাংলাদেশ দিতে পেরেছি!!?? তারা দেশ কে স্বাধীন করে গেছেন কিন্তু সেই দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাবার দ্বায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের। স্বাধীনতার প্রায় ৩৭ বছর পার হতে চলল……এরমধ্যে কিছূ কিছূ ঘটনা ঘটে গেছে যা যারা দেশকে ভালোবাসে তাদের জন্য তা পীড়াদায়ক। দূর্নীতিতে আমরা চ্যাম্পিয়ন, আরও পীড়াদায়ক আমাদের দেশের মানুষই অন্যের উসকানিতে গার্মেন্স শিল্পের মত বৃহৎ শিল্পকে ধ্বংষের পায়তারা করেছিল একসময়। একাধারে বিভিন্ন গার্মেন্টসে ভাংচুর করা ভুলে যাননি নিশ্চয়। আজ একাত্তুরের রাজাকারেরা বুকচিতিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলে। মুক্তিযোদ্ধারা বুঝতে পেরেছেন যে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আমাদের প্রজন্মের এখন উচিত তাদের পাশে এসে দাড়ানো।

এখন আসি মূল বিষয়ে। আমি বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটা কিছু করার পরিকল্পনা করছিলাম। পরিকল্পনাটা কিছুটা দাড় করানোর পর আজ ব্লগে লিখছি

পরিকল্পনাটা হল আমার ইচ্ছা আছে দেশের ‘যত’ মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাদের ব্যাক্তিগত ভাবে সাক্ষাতকার নেয়া। তারা কিভাবে সাধারন একজন মানুষ থেকে মুক্তি যোদ্ধা হলেন, যুদ্ধ করলেন , দেশ স্বাধীন করলেন , দেশের মানুষের প্রতি তার কি বলার আছে এগুলোর ভিডিও করে সাক্ষাতকারটি সংরক্ষন করা। এভাবে একে একে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী তাদের জীবনের কাহিনী, তারা এখন কেমন আছেন এসকল বিষয় ভিডিও করে তা যথাযথ ভাবে সংরক্ষন করা।

এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য:

১) দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবন কাহিনী ক্যামেরার ফ্রেমে বন্ধী করা

২) আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিভাবে জানছি? বই পড়ে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গিয়ে…
তবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা স্বয়ং একজন মুক্তি যোদ্ধার কাছ থেকে শুনতে পারে জানতে পারে তাহলে তারা মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কে আরো ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের মনোভাব সৃষ্টি করা যাবে।

৩) আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরত্বের কাহিণী দেশের মানুষের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যাবে।

সাক্ষাৎকার নেয়ার পর পরবর্তী পরিকল্পনা গুলো হল

১) সাক্ষাতকারের ভিডিও গুলো যথাযথ সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা।

২) ভিডিও সংগ্রহের পর বক্তব্যগুলোর ইংরেজী সাবটাইটেলের ব্যবস্থা করা । যাতে ভিন্ন ভাষাভাষীর বা বহির্বিশ্বের মানুষ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরত্বের কাহিনী জানতে পারে।

৩) সাক্ষাৎকারের ভিডিওকে সিডি আকারে প্রকাশ করা বা দেশের মানুষকে তা দেখানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। এক্ষেত্রে কোন অর্থ প্রাপ্ত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানের কাজে ব্যায় করা হবে।

৪) সিডির পাশাপাশি এই ভিডিও ইন্টারনেটে ও ছাড়া যেতে পারে যাতে বিশ্বের যেকোন স্থানে বসেই এই ভিডিও সংগ্রহ করা যায়।

এই হল এতদিন ভেবেচিন্তে করা আমার পরিকল্পনা। এখন এব্যাপারে আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রাইলাম……..

ধন্যবাদ
__________

Advertisements