গেটএফ্রিল্যান্সারে আমার অভিজ্ঞতা

আজ আমি লিখছি http://www.getafreelancer.com । শুরুতেই আমি ধণ্যবাদ জানাচ্ছি জাকারিয়া ভাইকে তিনি যদি ফ্রি ল্যান্সিং সাইটগুলো আমাদের কাছে তুলে না ধরতেন তাহলে আমরা হয়তো অনেকে জানতামইনা ব্যাপারটা। সাইটগুলো সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই তিনি অনেক আগেই এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন http://freelancerstory.blogspot.com/ আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতা টা জানাবো। তবে শুরু করিঃ

ম্যাগাজিনে জাকারিয়া ভাইএর লেখা দেখে প্রথম ফ্রি ল্যান্সিং সাইট সম্পর্কে জানলাম। ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করবো ভাবতেই অন্যরকম লাগছিলো। যা হোক ওগুলোর মধ্যে আমার getafreelancer.com সাইটটি overall ভালো লাগলো। তাই রেজিষ্টার করে ফেললাম। করেই ঘাটাঘাটি শুরু করলাম কোন কাজের জন্য বিড করা যায়। বিড করলামও কিছু প্রজেক্টে ( আমার প্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং ফটো রিটাচিং এ হাত রয়েছে তাই সেগুলোতে বিড করলাম )। এর পর অপেক্ষা কবে কাজ পাবো। ১দিন জায় ২দিন যায় এমন করে দু সপ্তাহ পেরিয়ে গেল কাজ পেলাম না কোন 😦 মন খারাপ হল। তবে হাল ছাড়িনি যে কাজ গুলো আমার পক্ষে করা সম্ভব সেগুলোতে বিড করেই গেলাম এবার একটা পদ্ধতি অনুসরণ করলাম । দেখলাম প্রজেক্টে যারা বিড করেছে তারা গড়ে কত মূল্য চেয়েছে তাদের থেকে কম মূল্যে আমি বিড করলাম এবং ক্লায়েন্ট কে PM (Private Massage) তার এটাচকরা সেম্পল ইমেজ কে  রিটাচিং করে আমার Best কাজটি বায়ারকে এটাচ করে পাঠালাম।

[ কিছু ছাগল আছে যারা তাদের সেম্পল Project Clarification Board এ দিয়ে দেয় যেটা শুধু বায়ারের সাথে প্রজেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ব্যবহার করা হয় এবং তা সকলের দেখার জন্য উন্মুক্ত এমনকি যারা বিড করছে তারাও ] লক্ষ্য রাখলাম আমার কাজ  যেন অন্তত তাদের গুলো থেকে ভালো হয়। ব্যাস এর পর আবার অপেক্ষা কবে রিপ্লাই পাবো……..

একদিন হঠাৎ PM এ বায়ারের  রিপ্লাই পেলাম যে আমার কাজ তার পছন্দ হয়েছে এবং আমার Bidding ammount ও। ব্যাস রাজি হয়ে গেলাম। বায়ার পেমেন্ট এস্ক্রো করে দিল (এটা সাইটের একটি ফিচার যা কাজ শেষে অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় বিস্তারিত জাকারিয়া ভাইএর ব্লগে দেখুন) ব্যাস কাজে লেগে পড়লাম যাতে বায়ারের ডেডলাইনের আগেই কাজ কম্প্লিট করতে পারি। এক সময় কাজ শেষ হল, তা ডেডলাইনের আগেই এবং বায়ারের স্ক্রো করা পেমেন্ট পেয়ে গেলাম। হুররে ! আমার ফ্রিল্যান্সিং করে প্রথম আয় । তবে টাকা হাতে না আসা পর্যন্ত আমার তা বিশ্বাস হচ্ছিলো না। এবার পেমেন্ট অপশন থেকে withdraw তে গেলাম এবং উইথড্র অপশনের মধ্যে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলাম আমার ডেবিট কার্ড চাই তাই GetAFreelancer.com Debit card অপশনে ক্লিক করলাম। কিন্তু একি!! তারা বলছে “You need to have at least $30.00 to order a card!”

আমার এম্যাউন্ট এর থেকে কম ছিলো। এবার খোজাঁ খুজিঁ শুরু করলাম এই কার্ড টা পেতে আমার কত খরচ হবে । জানলাম কার্ডথেকে প্রথমবার টাকা উইথড্র করার সময় পেয়নিয়ার(যারা এই ডেবিটকার্ড দিচ্ছে) ২০ ডলার শিপিং চার্জ নেবে। হুমম তো ঠিক আছে সিদ্ধান্ত নিলাম আরো কিছু অর্থ উপার্জন করি তারপর না হয় টাকা তোলা যাবে। এরপর এখান থেকে মোটামুটি আয় করার পর প্রথমে কার্ডের অর্ডার দিলাম। প্রায় একমাসের মধ্যে কার্ড পেয়েও গেলাম। আমিতো পুরা পাংখা 😉 ফ্রিল্যান্সিং করে আমার প্রথম উপার্জিত টাকা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টাডের এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতে হবার পর অবশেষে মনে প্রশান্তির ধারা বয়ে গেল। টাকাটা বাসায় এসে আমার মায়ের হাতে দিলাম। অসাধারণ অনুভূতি কি বলবো…..

এই হলো গিয়ে আমার ফ্রি ল্যান্সিং এ অভিজ্ঞতা এখন নিয়মিত কাজ না পেলেও মাঝে মাঝে কাজ পাচ্ছি

এবার আমি আপনাদের কিছু টিপস দেব যেটা আমি অনুসরন করেছি তবে এগুলো অনুসরন করলেই যে আপনি কাজ পেয়ে যাবেন তার নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছিনা তবে হয়তো কাজ পেতে সহায়তা হবে

  • ১) আপনি যদি নতুন ফ্রি ল্যান্সার হন তাহলে সকলের বিডিং এ্যামাউন্ট থেকে আপনারটা কিছু কম রাখতে পারেন তবে আপনার কাজের সেম্পলটাই মূল বিষয় কাজ পাবার ক্ষেত্রে
  • ২) আপনার প্রথম লক্ষ্য হবে ৩০ ডলার বা এর অধিক আয় করে ডেবিট কার্ড অর্ডার করা
  • ৩) ভূলেও  Project Clarification Board এ আপনার কাজের সেম্পল দেবেন না কারন অন্য বিডাররাও তা দেখতে পাবে।
  • ৪) ক্লায়েন্টেরসাথে যোগাযোগ বা সেম্পল দেখানোর জন্য পিএম ফিচার ব্যবহার করুন
  • ৫) এখানে কাজ পাবার সবচেয়ে কার্যকরী বিষয় হচ্ছে ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ তাই পিএম এ ক্লায়েন্ট কে প্রজেক্ট সম্পর্কে আরো তথ্য দিতে অনুরোধ করতে পারেন।
  • ৬) কাজ শেষে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে রিভিউ এবং রেটিং চাবেন কারন এটি আপনাকে ভবিষ্যতে আরো কাজ পেতে সহায়তা করবে। প্রতিটা কাজ শেষে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে রিভিউ চাবেন। তবে চাওয়ার ধরন টা হবে এমন “If you are satisfied with my work, can you plz give me rating or review?
  • ৭) ভূলেও বায়ার কে তেল মারবেন না যে আপনার এ কাজে এত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।  এর বদলে আপনি আপনার পোর্টফোলিও নিয়ে সাইট তৈরী করতে পারেন এবং সেটা আপনার ক্লায়েন্ট কে জানাতে পারেন।
  • ৮) আপনি কাজ তখনই নেবেন যদি আপনি বায়ারের  শর্ত বা ডেডলাইনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম থাকেন। নাহলে আপনি বায়ার থেকে নেগেটিভ রিভিউ পেয়ে যেতে পারেন যা ভবিষ্যতে আপনার কাজ পাবার সম্ভাবনা কে অনেকাংশে কমিয়ে দেবে।

referral সহ http://www.getafreelancer.com/affiliates/ishtiaqueahmed/

টেকটিউনস : http://techtunes.com.bd/tips-and-tricks/tune-id/7617/

Ishtiaque Ahmed (Foisal)

Advertisements

এনিমেশন বাংলাদেশে এক সম্ভাবনার নাম

আমার লিখা এ পর্যন্ত প্রায় সবগুলো পোষ্টই ছিল ওপেনসোর্স আর লিনাক্স নিয়ে। তাই আজ ভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখছি। আজকে লিখার বিষয় হল কম্পিউটার এনিমেশন ও বাংলাদেশে এর অপার সম্ভাবনা। প্রথমে বলি এনিমেশন কি?

আসলে আমাদের আসেপাশে চলমান সকল কিছুই একেকটি এনিমেশন।অর্থাৎ কোন স্থির বস্তুকে এনিমেটেড করতে হলে প্রতি সেকেন্ডে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করলে সেটা এনিমেটেড হয়ে যাবে আরো ভালো ভাবে বুঝতে নীচের ছবিটি দেখুন।

Burnt_City_Boz_details

এটি কে বলাযায় বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো এনিমেশন। এটি প্রায় ৫২০০ বছরের পূরনো চিত্রকর্ম। এখানে হরিনটির ৫টি চিত্র তৈরী করা হয়েছে যেখানে গাছ এবং অন্যসব কিছু ঠিক রেখে একটি হরিনকে ৫ বার অবস্থান পরিবর্তন করে আকা হয়েছে। এটিকে আমরা ৫ ফ্রেমের এনিমেশন বলতে পারি।

bozএবার ওপরে দেখুন সেই ৫টি ছবি কে একসাথে পর্যায়ক্রমে দেখানো হয়েছে। দেখলেন এটি একটি এনিমেশন হয়ে গেল। তবে দেখছেন নিশ্চই এনিমেশন টি স্মুথ না। কারন শুধু ৫টি ফ্রেম দিয়ে আপনি স্মুথ এনিমেশন পাবেন না এজন্য আপনাকে ২৪ ফ্রেমের এনিমেশন তৈরী করতে হবে।অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ২৪টি ফ্রেম পর্যায়ক্রমিক ভাবে দেখানো হলে আমাদের চোখ এটিকে স্মুথ এনিমেশন হিসেবে দেখাবে।

এনিমেশন দুরকম:

১. ২ডি(ডাইমেশন)

২. ৩ডি(ডাইমেশন)

২ডি

এখানে ডি শব্দটার মানে হচ্ছে ডাইমেশন। তার মানে টুডি এনিমেশনের ডাইমেশন হচ্ছে দুটি – প্রস্থ (y এ্যাক্সিস) এবং উচ্চতা (x এ্যাক্সিস)। অর্থাৎ আপনি যখন টমএন্ডজেরীর মত কার্টুন দেখেন তখন আপনি ক্যারেকটার এর প্রস্থ,উচ্চতা এবং এক পার্শ দেখতে পান। এটিই মূলত টুডি। নিচের ছবিটি একটি টুডি এনিমেশন।

Animhorse

৩ডি

৩ডি কে টুডি থেকে আলাদা করে যে বিষয়টি তা হল এর গভীরতা(z এ্যাক্সিস)। অর্থাৎ ৩ডিতে আপনি বস্তুর প্রস্থ উচ্চতা ছাড়াও এর গভীরতা কতটুকু তা দেখতে পারেন। সহজে বুঝতে হলে হাতে একটা আম নিন (যেহেতু আমের সিজন 🙂 ) চোখের সামনে ধরুন কি দেখতে পাচ্ছেন? আমটি কতটুকু লম্বা এবং কতটুকু চওড়া তাইনা এবার আমটিকে হাতদিয়ে ঘুরান। কি আমটার চারপাশ আপনি দেখতে পাচ্ছেন? এটাই হল (z এ্যাক্সিস) এর দ্বারা বস্তুটির গভীরতা বোঝায়।

এর মানে হল বস্তু কে আপনি চারপাশে ঘুরিয়ে দেখতে পারলেই সেটা হয়ে যাবে ৩ডি।

এনিমেশন কেন শিখবো?

এনিমেশন এমন একটা বিষয় যেটা আপনি যে কোন দেশেই যান এর চাহিদা রয়েছে। কারন যেখানেই টিভি মিডিয়া রয়েছে সেখানেই বিজ্ঞাপন আর আজকাল এনিমেশন ব্যবহৃত হয়না এমন বিজ্ঞাপনের সংখ্যা অনেক কম। এনিমেশনের ব্যবহার ক্ষেত্র অনেক যেমন- টিভি বিজ্ঞাপন,কার্টুন,বাচ্চাদের শিক্ষামূলক মাল্টিমিডিয়া সিডি,আর্কিটেকচার,ফিল্ম স্পেশাল ইফেক্ট…. আরো অনেক কিছু। এখন আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন কোন ধরনের এনিমেশন আমার জন্য ২ডি নাকি ৩ডি।

৩ডি এনিমেশনটা তুলনামূলক সহজ এক্ষেত্রে আপনাকে এনিমেশনে ব্যবহৃত সফটওয়্যার গুলো আয়ত্বে আনতে হবে এছাড়াও যেটা প্রয়োজন হবে তা হল সৃজনশীলতা অর্থাৎ নিজের ক্রিয়েটিভিটি কে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছূ তৈরীকরা এবং থাকতে হবে ভালো পর্যবেক্ষন দৃষ্টি যেমন বাতাসে গাছের পাতা কিভাবে দুলছে, মানুষ কিংবা প্রানীর হাটাচলার সময় তাদের অঙ্গ সমূহের মুভমেন্ট অর্থাৎ বাস্তব বিষয়গুলি পর্যবেক্ষন করে সেটিকে এনিমেশনে কাজে লাগানো।

আর টুডি এনিমেশনের ক্ষেত্রে আপনার ছবি আকার দক্ষতা থাকতে হবে। কারন আপনাকে একটি টুডি ক্যারেক্টার কে সচল করতে প্রতি সেকেন্ডের জন্য ২৪টি ফ্রেম আকতে হবে। তাই টুডি এনিমেশন সময় ও ব্যায়সাপেক্ষ তবে এনিমেশন বাজারে টুডি এবং থ্রিডি উভয়এরই চাহিদা রয়েছে।

এটুকু বলতে পারি আপনি যদি সময় নিয়ে এনমেশন শিখতে পারেন এবং দক্ষতা অর্জনের পর সেটিদ্বারা আপনি মাসিক হাজার বিশেক থেকে তিরিশেক আয় করতে পারবেন প্রাথমিক অবস্থায়। আমাদের পার্শবর্তী দেশ  ভারতের কথাই ধরি তাদের ও আমাদের এনিমেশনের সূচনা প্রায় কাছাকাছি সময়ে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে। আমাদের দেশে ত্রিমাত্রিক নামের এনিমেশন স্টুডিও ১৯৯৯ সালে”মানব কঙ্কালের ঢাকা ভ্রমন” নামে একটি এনিমেশন তৈরী করে যেটি সে সময়ে ইত্যাদিতে প্রচারিত হয়েছিল। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত দুটি দেশকে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় বর্তমানে যেখানে ভারতে শতশত আন্তর্জাতীক মানের এনিমেশন স্টুডিও ও এনিমেটর জনশক্তি সেখানে বাংলাদেশে রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি এনিমেশন স্টুডিও। আগেতো আমাদের দেশের এনিমেশনের কাজও ভারত থেকে করে আনা হত তবে বর্তমানে বাংলাদেশের কয়েকটি এনিমেশন স্টুডিও সেই চাহিদা পূরন করছে। তবে আসুন আপনাদের বলি কেন এনিমেশন বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনার নাম-

উন্নত দেশসমূহ তাদের এনিমেশন তৈরীর খরচ কমানোর জন্য বিভিন্ন দেশে কাজ আউটসোর্সিং করে থাকে তুলনমূলক কম খরচে।

বিভিন্ন দেশে আধঘন্টার এনিমেশন ক্লিপের দাম ডলারে –

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা – ২,৫০,০০০ – ৪,০০,০০০

কোরিয়া ও তাইওয়ান – ২,৫০,০০০ – ৪,০০,০০০

ফিলিপাইন – ৯০,০০০ – ১,০০,০০০

ভারত– ৬০,০০০

বাংলাদেশ– ৪০,০০০-৪৫,০০০

তো দেখলেন আমরা সবচেয়ে কমখরচে এনিমেশন তৈরী করে দিতে পারি যদি আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষ এনিমেটর জনশক্তি থাকে। বর্তমানে ইন্ডিয়া সবচেয়ে কম খরচে এনিমেশনের কাজ করছে তাই তারা এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশী আয় করছে। তবে আমরা কেন নয়? কারন আমাদের প্রায় সকলের মধ্যে কিছুনা কিছু সৃজনশীলতা আছে এবং এনিমেশনের জন্য ব্যাবহৃত টুল গুলো আমাদের কাছে সহজ লভ্য আমরা যদি এনিমেশন শেখার জন্য কিছুটা সময় দেই এবং নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারি তাহলে আমরাও বহির্বিশ্বের আউটসোর্সিং এর কাজ করে প্রচুর বৈদেশীক মূদ্রা অর্জন করতে পারি।

এবার আপনদের জানাবো কয়েকজন সফল বাংলাদেশী এনিমেটরের নাম:

# নাফিস বিন জাফরঃ নাফিস বিন জাফর হচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশী যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমী অফ মোশন পিকচার আর্টস এন্ড সাইন্স বিভাগে অস্কার পেয়েছেন হলিউড ব্লকবাস্টার ফিল্ম পাইরেটস অব দা ক্যারাবিয়ান: এ্যাট ওয়ার্ল্ড এ্যান্ড এ ফ্লুইড ডাইনামিক্সের অসাধারন কাজ করার প্রেক্ষিতে। এওয়ার্ড টি তিনি তার আরো দুজন সহকর্মী ডগ রুবেল ও রিও সাকাগুচির সাথে পান।

বাংলাদেশের সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাফর বিন বাশারের একমাত্র পুত্র নাফিসের জন্ম ঢাকায় ১৯৭৭ সালে। ১৯৮৯ সালে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনার চার্লসটনে চরে যান। তারপর পড়াশোনা শেষে তিনি যোগদেন স্বনামধন্য এনিমেশন স্টুডিও “ডিজিটাল ডোমেইনে”। নাফিস তার এনিমেটর দলের হয়ে এপর্যন্ত কয়েকটি হলিউড ফিল্মে কাজ করেছেন। যার মধ্যে উল্যেখযোগ্য হল ২০০৫ সালে “স্টিলথ”, ২০০৬ সালে “ফ্লাগস অব আওয়ার ফাদার” এবং ২০০৭ সালে সর্বশেষ পাইরেটস অব দা ক্যারাবিয়ান: এ্যাট ওয়ার্ল্ড এ্যান্ড।

# সোহেল আফগানী রানাঃ

afgani2qm7

আপনাদেরকি মনে আছে “দুই বলদ” , ” বাসে একদিন”, “বেয়াক্কেল” নামের মজার এনিমেশন গুলির কথা? । মূলত এই সব মজারমজার এনিমেশন দিয়েই সোহেল আফগানী রানার পথ চলা শুরু। তিনি কোন প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স ছাড়াই শুধু এনিমেশন সফটওয়্যারগুলির হেল্প ফাইল পড়ে এনিমেশন তৈরী করা শুরু করেন। তারপর বিভিন্ন টিভি বিজ্ঞাপন দেখে সেগুলো অনুকরণ করে নিজেই স্যাম্পল এনিমেশন তৈরী শুরু করেন। তারপর তিনি সেম্পল গুলো বিভিন্ন এডফার্মে গিয়ে দেখান। তার কাজ ভালো হওয়ায় তিনি বানিজ্যিক ভাবে কাজ ও পেয়ে যান। এরপর তিনি নিজেই ডিজিআর্ট মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন নামে ফার্ম খোলেন। এ পর্যন্ত তার করা বিজ্ঞাপনের সংখ্যা অর্ধ শতাধিকেরও বেশী।

ওয়েবসাইট: Link

http://www.digiart.tk/

Youtube: http://www.youtube.com/user/rana3d

# আরিফ আহমেদ:

arif

আরিফ আহমেদ কে বলা যায় বাংলাদেশের এনিমেশনের সূচনালগ্নে প্রথম দিককার একজন এনিমেটর এবং সবচেয়ে অভিজ্ঞ একজন এনিমেটর ও বটে। তিনি ১৯৮২ সালে মতিঝিল টিএন্ডটি হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৪সালে নটরডেমথেকে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করেন। তিনি ব্যাক্তিগত উদ্যোগেই এনিমেশন শেখা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালের গোড়ার দিকে থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স ১ দিয়ে এনিমেশনের কাজ শুরু করেন। এখনো তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার কাজের প্রোফাইল অনেক বড় যা এখানে লিখে শেষ করা যাবেনা। আপনারা তার ওয়েবসাইট থেকে তা দেখতে পারবেন।তিনি সহ বাংলাদেশের আরো কয়েকজন স্বনামধন্য এনিমেটর মিলে “অরা এনিমেশন” নামে এনিমেশন স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেছেন যেখানে তিনি নিজেই এনিমেশন কোর্স পরিচালনা করে থাকেন।ওনার লক্ষ্য হচ্ছে নিজের এতবছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের এনিমেশন জনশক্তি তৈরী করা। তিনি প্রায়শই এনিমেশন বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে থাকেন যেখানে তিনি সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহাকারীদের এনিমেশন বিষয়ে ধারনা দিয়ে থাকেন। নীচের ছবিটি একটি ওয়ার্কশপের যেখানে আমিও আছি 😉

Aura1

আরিফ আহমেদের করা কিছুকাজঃ

Collage2

ওয়েবসাইট: http://arif3dstudio.com/about/

অরা এনিমেশন : House #3,Road # 4, Block: A, Section: 6, Mirpur (Opposite Mirpur Eye Hospital) Tel: 8035850,01715679354

# জহিরুল ইসলাম শরিফ:

Zahirual

কম্পিউটারের সাথে জহিরুলের পরিচয় ছোটবেলাথেকেই । তার বড় ভাই মনিরুল ইসলাম শরীফ একজন প্রোগ্রামার সে সুবাদ কম্পিউটারও তার হাতে আসে ছোটবেলায়। তবে তার প্রোগ্রামিং এর প্রতি তেমন ঝোক ছিলনা যতটা ছিল গ্রাফিক্স আর এনিমেশনের প্রতি। তাই তার বড়ভাই তাকে বুঝিয়ে বলে কিভাবে হলিউড ফিল্ম গুলোতে এনিমেশন স্পেশাল ইফেক্ট গুলো দেয়া হয় এবং তার হাতে তুলে দেয় ৩ ডি স্টুডিও ম্যাক্স ৩ সফটওয়্যার টি। ব্যাস তখন সে উৎসাহের সাথে সফটওয়ারটি দিয়ে এনিমেশন তৈরীর কাজে নেমে যায়। এরপর সে তার কয়েকজন সহপাঠি দের নিয়ে এনিমেটরের একটি গ্রুপ তৈরী করে যার নাম “সিনাপটিকসৃ স্টুডিও”। তারা একটি এনিমেশন ফিল্মের কাজে হাত দিয়েছিল যার নাম হল “খেরোহা” যেটির ট্রেইলার ও তারা প্রকাশ করে ছিল যা সেই সময় কম্পিউটার টুমরো নামের ম্যাগাজিন সিডিতে প্রকাশ করা হয়েছিল ( ট্রেইলারটি আপলোড করে এখানে লিন্ক দিয়ে দেব)।

তার ব্যাক্তিগত অর্জনের মধ্যে রয়েছে:

NDC 1st Prizeচতুর্থ নটরডেম কম্পিউটার উৎসব ২০০০ এ এই থ্রিডি প্রচ্ছদ ডিজাইন করে ১ম পুরষ্কার অর্জন করে

1st Prize“মাই লিটল ওশান” নামে এই ৩ডি মডেল ডিজাইন করে জহিরুল 3dluvr.com এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল

এতক্ষন যাদের কথা বললাম তাদের সবারই সফলতার কারন সৃজনশীলতার পূর্ন ব্যবহার, অধ্যাবসায় ও পরিশ্রম তাই আপনি যদি মনে করেন আপনি এনিমেশনে কিছুকরে দেখাতে পারবেন তাহলে এখনি লেগে পড়ুন এনিমেশন নিয়ে। আজকালতো মার্কেটে হাজারো রকমের এনিমেশনের উপর টিউটোরিয়াল পাওয়া যায় সেগুলো সংগ্রহ করুন, এনিমেশন সফটওয়্যার যেমন মায়া ,৩ডি স্টুডিও ম্যাক্স ইত্যাদি সংগ্রহ করে শেখার চেষ্টা করুন। টিভিতে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের এনিমেশন গুলো ভালো ভাবে পর্যবেক্ষন করুন তার পর টিভিসি গুলোর দেখাদেখি এনিমেশন সেম্পল তৈরীকরুন এগুলো আপনি যদি কোন এডফার্মে এ্যাপলাই করেন তাহলে সেম্পল গুলো প্রয়োজন হবে আপনার দক্ষতা প্রমানের জন্য।

এ লেখাটির কিছু ছবি উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তাই উইকিপিডিয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি

ওপেনসুসি ১১.১ আরেকটি জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন

suse111_box

লিনাক্স হচ্ছে এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যার রয়েছে অনেক গুলো ডিস্ট্রিবিউশন,অনেকগুলো ফ্লেভার যা ব্যবহারকারী কে স্বাধীনতা দেয় তার পছন্দ ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন বেছে নেয়ার স্বাধীনতা। অর্থাৎ আপনি যদি মাল্টিমিডিয়া ব্যাবহারকারী হন বা অডিও ভিডিও এডিটিং এর কাজ করেন তবে আপনি সেসকল এ্যাপলিকেশন বা সুবিধা সম্বলিত লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন খুঁজে পাবেন তাছাড়াও অফিস বা কর্পোরেট ইউজার,লোকনফিগারেশন পিসির জন্য, ক্লাউড কম্পিউটিং এর জন্য মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন। এর মধ্যে কিছু লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে যার মধ্যে উবুন্টু সম্পর্কে তো আপনারা প্রায় সবাই জানেন তবেন উবন্টু ছাড়াও জনপ্রিয়তার শীর্ষে যেসকল লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন রয়েছে তার মধ্যে যথাক্রমে ওপেনসুসি,ফিডোরা,ডেবিয়ান,ম্যানড্রিভা, পিসিলিনাক্সওএস অন্যতম। আমার এর আগের বেশিরভাগ পোষ্টে আমি উবুন্টু নিয়েই বেশী লিখেছি এতে কেউকেউ আমার কাছে অভিযোগ এবং ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আমি যেন অন্যান্য লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন নিয়েও লিখি তাই ভাবলাম ওপেনসুসি ১১.১ দিয়েই শুরু করি। উবুন্টুর পর এটি আমার দ্বিতীয় পছন্দের লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন।

সুসি লিনাক্স ওপেনসোর্স হলেও শুরুর দিকে এটি ফ্রি ছিলনা। এর এন্টারপ্রাইজ সার্ভার এডিশন কিনতে পাওয়া যেত যার টার্গেট ছিল এন্টারপ্রাইজ এবং কর্পোরেট ইউজার। তবে Novell Inc ২০০৩ সালের নভেম্বরে সুসি কে কিনে নেবার পর সুসির কমার্শিয়াল বা এন্টারপ্রাইজ ভার্সনের পাশাপাশি এর ফ্রি ভার্সন (SUSE Linux 10.0) রিলিজ করে যা ওপেনসোর্স কমিউনিটি ও ভলান্টিয়ার দ্বারা পরিচালিত এবং ডেভলপমেন্টের কাজ করা হয়। পরে এর নাম পরিবর্তন করে openSUSE 10.2 রিলিজ করা হয়। আসলে ফ্রি (openSUSE) ও এন্টারপ্রাইজ ভার্সনের মধ্যে খুব বেশী তফাৎ নেই। এন্টারপ্রাইজ এডিশন কিনলে আপনাকে সাপোর্ট এবং সার্ভিস প্রদান করা হবে আর ফ্রি ভার্সনে আপনি কমিউনিটি ও ভলান্টিয়ার দের কাছ থেকে সহায়তা পাবেন। তাই বলাযায় এটি হোমইউজারের পাশাপাশি অফিস ইউজারদের উপযোগী একটি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন। ওপেনসুসির যে বিষয়টি আমাকে আকর্ষন করে তা হল এর অসংখ্য প্রয়োজনীয় এ্যাপলিকেশনের কালেকশন এবং প্রতিটি নতুন ভার্সনে ডজনখানেকের বেশী উল্যেখযোগ্য ফিচার। তবে নোভেল এর যে বিষয়টি ভালোলাগেনি তা হল নোভেল মাইক্রোসফটের সাথে চুক্তি করেছে । এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে নোভেল তার প্রোডাক্টে মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে এবং মাইক্রোসফটও তাই করতে পারবে। আমি এ বিষয় নিয়ে আগে লিখেছিলাম এখানে দেখুন। তবে আমার মতে মাইক্রোসফট ভরসা করার মত কোম্পানী নয় । কেন সেটি আমার ওই লেখা থেকেই বুঝতে পারবেন তবে যাহোক ফলাফল যেটাই হোক সেটা নোভেলই ভোগ করবে।

যাক অনেক হল ইতিহাস এবার মূল বিষয়ে ফিরে আসি। আজকে যেটি সম্পর্কে আপনাদের জানাবো তা হল ওপেনসুসি এর সাম্প্রতিক প্রকাশিত সংস্করণ ওপেনসুসি ১১.১ সম্পর্কে যেটি ১৮ই ডিসেম্বর, ২০০৮ এ রিলিজ হয়েছে।

তবে আসুন দেখি ওপেনসুসির ফিচার ও আপডেট গুলিঃ

ইনস্টলেশন

ওপেনসুসি ১১.১ এর ডিভিডি ইনস্টলার কে নতুন করে সাজানো হয়েছে এবং আরো আকর্ষনীয় করে তোলা হয়েছে। এছাড়াও ওপেনসুসি ১১.১ এর লাইভসিডিও পাওয়া যায় । Gnome এবং KDE ডেক্সটপ এর উপর ভিত্তিকরে দুটি আলাদা লাইভসিডি পাবেন অর্থাৎ আপনি ইনস্টল না করেও ওপেনসুসি ১১.১ পরখ করে দেখতে পারবেন লাইভ সিডির মাধ্যমে এবং উবুন্টুতে যেভাবে আপনি লাইভসিডির মাধ্যমে ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন সেভাবেই আপনি ওপেনসুসি ১১.১ ও ইনস্টল করতে পারবেন। এছাড়াও পার্টিশনিং এর ক্ষেত্রে ওপেন সুসি ১১.১ এ নতুন পার্টিশনিং মডিউল যুক্ত করা হয়েছে যা হার্ডডিস্ক পার্টিশনিং এর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ইউজার দের জন্য সহায়ক হবে। তবে লাইভ সিডি থেকে আমি ডিভিডি ভার্সন থেকে সুসি ইনস্টল করার পক্ষে কারন এতে আপনি সকল ফিচার সহ যাবতীয় সব এ্যাপলিকেশন পাচ্ছেন আরআপনি পাচ্ছেন নির্দিষ্ট কিছু এ্যাপলিকেশন ইনস্টলেশনের জন্য সিলেক্ট করার ক্ষমতা।

opensuse-11-1-is-here-31

ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট

ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্টের মধ্যে আপনি পাচ্ছেনঃ

  • GNOME 2.24.1 ওপেনসুসি ১১.১ এ দেয়া হয়েছে জিনোম ডেক্সটপ এর ২.২৪.১ সংস্করণ যাতে রয়েছে ট্যাব ফিচার সহ নানান সুবিধা। সুসি ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট গুলো নিজের মত কাস্টোমাইজ করেনেয়। তাই এতে আপনি জিনোমের স্বাভাবিক উপরনীচে দুটি প্যানেলের বদলে নীচে একটি প্যানেলই পাবেন আর সুসি লিনাক্সে জিনোমের স্টার্টমেনুটিও আলাদা যা নীচের চিত্রে দেখতে পারেন। চিত্রঃ জিনোম স্টার্টমেনু

g-m-m

  • KDE 4.1.3 + KDE 3.5.10 – জিনোম এর পাশাপাশি ওপেনসুসি তে রয়েছে কেডিই ডেক্সটপ এবং এর সঙ্গে আসা কিছু আনুসঙ্গিক এ্যাপলিকেশন যেগুলো নিয়ে পরে আলোচনা করছি। তাছাড়া যাদের আগের কেডিই ডেক্সটপ পছন্দ তাদের জন্য রয়েছে KDE 3.5.10

kde4-41-oxygen-sample-custom

  • Xfce 4.4.3 – এটি হচ্ছে একটি লাইটওয়েট ডেক্সটপ এনভারনমেন্ট যা লোকনফিগারেশন পিসির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাছাড়া আপনার পিসির কনফিগারেশন ভালো হলেও কেডিই বা জিনোম ডেক্সটপ থেকে এটিকে অনেক ফাস্ট মনে হবে।

os11-xfce-3

  • ডেক্সটপ ইফেক্ট ওপেনসুসি ১১.Compiz Fusion এর মাধ্যমে আপনি ৩ডি ডেক্সটপ ইফেক্ট তো পাচ্ছেনই এছাড়াও আপনি KDE 4 এরKWin দ্বারা আরো কিছু নতুন ইফেক্ট ও পাবেন।

opensuse-11-1-is-here-9


অফিস ইউজারদের জন্য প্রয়োজনীয় এ্যাপলিকেশন

  • OpenOffice.org 3.0 এবং KOffice 1.6.3 – OpenOffice হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স ক্রসপ্লাটফর্ম অফিস এ্যাপলিকেশন এবং মাইক্রোসফট অফিসের এক শক্ত প্রতিদ্বন্দী। ৩.০ হচ্ছে ওপেনঅফিস এর একটি বহুল প্রত্যাশিত ভার্সন। কারন এতে রয়েছে নানান গুরুত্বপূর্ন ইমপ্রূভমেন্ট যে ভার্সন টি আমরা উবুন্টু ইন্টারপিড আইবেক্স ৮.১০ এ আশা করেছিলাম। নোভেলের কাস্টোমাইজড এই ওপেনঅফিস সুইটে রয়েছে উন্নত Microsoft Excel interoperability, ৩ডি স্লাইড ট্রানজিশন এছাড়াও ODF(Open Document Format) 1.2 এর জন্য সাপোর্ট, OOXML এর জন্য ইমপোর্ট ফিল্টার,Gstreamer (মাল্টিমিডিয়া এমবেডিং) Mono(.NET এর বিকল্প) এর জন্য সাপোর্ট সহ আরো নানাকিছু।

    এছাড়াও রয়েছে কেডিই ডেক্সটপের জন্য আরেকটি অফিস এ্যাপলিকেশন সুইট KOffice যেটি ওপেনঅফিসের মতই একটি অফিস এ্যাপ্লিকেশন সুইট তবে এটি ক্রসপ্লাটফর্ম নয় । দুটোতেই রয়েছে ডকুমেন্ট লেখালেখি,স্প্রেডশিট,প্রেজেন্টেশন তৈরীর জন্য এ্যাপলিকেশন।

  • Beagle ডেক্সটপ সার্চ টুল Beagle হচ্ছে ওপেনসুসির ডিফল্ট ডেক্সটপ সার্চটুল। এই সার্চটুলের মাধ্যমে যে আপনি শুধু আপনার হার্ডডিস্কে রাখা ফাইল সমূহ সার্চ করতে পারবেন তা নয়। এর মাধ্যমে আপনি ডকুমেন্ট,ইমেইল/এটাচমেন্ট, ওয়েব হিস্টোরি, ম্যাসেঞ্জার চ্যাট কনভারসেশন, এড্রেসবুক কনটাক্ট,সোর্সকোড,মিউজিক/ভিডিও/ছবি,কমপ্রেসড আর্কাইভের কন্টেন্ট সার্চ করতে পারবেন এবং বিভিন্ন এ্যাপ্লিকেশনের ডাটা কন্টেন্ট ও সার্চ করতে পারবেন। এটি আমার একটি প্রিয় ডেক্সটপ সার্চ টুল।

727px-beagle1


  • Tellicoটেলিকো হচ্ছে কেডিই ডেকস্টপ ভিত্তিক একটি বুক ক্যাটালগ ম্যানেজার। এর মাধ্যমে আপনার যদি বুক লাইব্রেরী থাকে তবে আপনি বই গুলোর জন্য ডিজিটাল ক্যাটালগ ডেটাবেজ তৈরী করতে পারবেনএবং বইএর মলাটের চিত্রসহ বইসম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করতে পারবেন। আপনার একটি বুক লাইব্রেরী থাকলে নিশ্চই এটি কাজে আসবে।

main_screen-11

  • tasqueTasque 0.1.7 – এটি হচ্ছে লিনাক্সের জন্য টাস্ক ম্যানেজমেন্ট (Todo list) এ্যাপলিকেশন অর্থাৎ ভূলোমন পাবলিকদের জন্য প্রয়োজনীয় এ্যাপলিকেশন 🙂

tasquewnotes1

  • Evolution 2.24.1.1, Kontact 4.1.3এভলুশন কে আপনি মাইক্রোসফট আউটলুকের লিনাক্স বিকল্প হিসেবে ধরে নিতে পারেন। এটি একাধারে PIM(Personal information manager) , ইমেইল ক্লায়েন্ট, কন্টাক্ট লিস্ট,টার্ক,ক্যালেন্ডার ম্যানেজার এবং এটি Exchange 2000/2003 সাপোর্ট করে। আর kontact ও অনেকটা Evolution এর মত কেডিই ডেকস্টপ ভিত্তিক Personal information manager

read-mail

kontact_presentation

  • Wine 1.1.9ওয়াইন হচ্ছে উইন্ডোজ ভিত্তিক এ্যাপলিকেশন লিনাক্সে চালানোর জন্য একটি Emulator এটি উইন্ডোজ এ্যাপলিকেশন সমুহ লিনাক্সে চলতে সহায়তা করে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এর জন্য এ্যাপলিকেশন

  • GIMP 2.6.2 জিম্প হচ্ছে একটি ইমেজ এডিটিং এবং Image Manipulation এ্যাপলিকেশন। এডবি ফটোশপের মত বিশাল ওফিচার সমৃদ্ধ এ্যাপলিকেশন না হলেও আপনার দৈনন্দিন সাধারণ ইমেজ এডিটিং এর চাহিদা মেটাবে।

  • Inkscape 0.46 লিনাক্সে ভেক্টর গ্রাফিক্স ড্রইং এর ক্ষেত্রে ইন্কস্কেপ একটি অনন্য সফটওয়্যার। এরদ্বারা আপনি এডবি ইলাস্ট্রেটর,কোরেলড্র এর মত ভেক্টর গ্রাফিক্স তৈরী করতে পারবেন। এতে রয়েছে এডভান্সড SVG ফিচার যেমন (markers, clones, alpha blending) এছাড়াও রয়েছে trace bitmap এর মত গুরুত্বপূর্ণ ফিচার।

inkscape-047-spiro-typography

  • F-Spot 0.5.0.3, Gwenview 1.4.2, Digikam 0.9.4 – ছবি ব্যাবস্থাপনার সফটওয়্যার হিসেবে ওপেনসুসিতে দেয়া হয়েছে F-Spot , Gwenview এবং Digikam

digikam


মাল্টিমিডিয়া

  • Banshee 1.4.1, Amarok 1.4.10 & 2.0 – বানশি সম্পর্কে তো আপনাদের আগেই জানিয়েছিলাম এমারক ও বানশির মত একটি মিউজিক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার।

  • Kaffeineএটি একটি ওপেনসোর্স মিডিয়া প্লেয়ার।

  • Audacity 1.3.5অডিও ক্লিপ এডিটিং এর জন্য ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী একটি এ্যাপলিকেশন।

audacity-linux

  • k3b CD/DVD burnerসিডি ডিভিডি বার্নিং এর ক্ষেত্রে একটি যুতসই এ্যাপলিকেশন যা উইন্ডোজ/লিনাক্স ভিত্তিক নিরো সিডি/ডিভিডি বার্নিং এ্যাপলিকেশনের কথা ভূলিয়ে দেবে।

  • Gnash 0.8.4এটি একটি জি.এন.ইউ ওপেনসোর্স ফ্ল্যাশ মুভি প্লেয়ার ও ব্রাউজার প্লাগইন । বলা যায় এডবি ফ্ল্যাশ প্লেয়ারের ওপেনসোর্স বিকল্প।

gnash08


নেটওয়ার্ক

  • NetworkManager 0.7 – নেটওয়ার্ক ম্যানেজার এর সাম্প্রতিক ভার্সন যাতে রয়েছে ৩জি নেটওয়ার্ক ও মোবাইল নেটওয়ার্ক কানেকশন সাপোর্ট। এছাড়া ওপেনসুসি তে ব্লুটুথ সাপোর্ট ও রয়েছে।

mobile_broadband

  • Samba 3.2.4 সাম্বা ( হিন্দি শোলে ফিল্মের সাম্ভা ক্যারেকটার নয় কিন্তু 😉 ) হল উইন্ডোজ ও লিনাক্সের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ,ফাইল ওপ্রিন্টার সার্ভিস শেয়ারিং সুবিধা দেওয়ার জন্য একটি এ্যাপলিকেশন।

  • Nagios 3.0.5 – এটি হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স নেটওয়ার্ক মনিটরিং সিস্টেম।

ইন্টারনেট

  • VOIP সফটওয়্যার – ভিওআইপি সফটওয়্যার হিসেবে ওপেনসুসিতে রয়েছে Ekiga 3.0.1, Linphone 2.1.1Twinkle 1.3.2

ekigacall-thumb

  • ওয়েব ব্রাউজার – ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে দেয়া হয়েছে Firefox 3.0.4, Konqueror 4.1.3 এবং SeaMonkey 1.1.13

  • টরেন্ট ও পি২পি ক্লায়েন্ট Bittorrent, Ktorrent 3.1.5 এবং Monsoon 0.15

  • ইমেইল ক্লায়েন্ট Thunderbird 2.0.0.18 ,Evolutionএবং Kontact

  • ম্যাসেঞ্জার/চ্যাট ক্লায়েন্ট Kopete 4.1.3, Pidgin 2.5.1, Empathy 2.24.1

সিকিউরিটি

  • Finger print recognition সাপোর্ট

  • AppArmor 2.3 Application Armor বা সংক্ষেপে AppArmor ওপেনসুসির এ্যাপলিকেশন সমূহের জন্য নিরাপত্তা প্রদান করে এবং বহিরাগত থ্রেটসমূহ হতে এ্যপালিকেশন কে রক্ষা করে এবং এ্যাপ্লিকেশনের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে যাতে উক্ত এ্যাপলিকেশনের ক্ষমতা কে কাজে লাগিয়ে কেউ অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ক্ষতিসাধন না করতে পারে।

  • এন্টিভাইরাস বা ভাইরাস স্ক্যানার এন্টিভাইরাস হিসেবে রয়েছে AntiVir এবং লিনাক্সের জন্য জনপ্রিয় এন্টিভাইরাস clamav 0.94.1

  • স্প্যাম ফিল্টার স্প্যাম মেইল এর জ্বালাতন হতে রক্ষা করার জন্য রয়েছে SpamAssasin 3.2.5 bogofilter 1.1.1

এছাড়াও রয়েছে SELinux , SUSE Firewall ও উন্নত YaST security module

ডেভলপমেন্ট এবং প্রোগ্রামিং এর সহায়ক এ্যাপলিকেশন

  • ডেভলপারদের সুবিধার্থে ওপেনসুসিতে দেয়া হয়েছে অনেকগুলো ডেভলপমেন্ট টুল ফ্রেমওয়ার্ক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ যেমন– Mono, KDevelop, Eclipse 3.4, gtk+ 2.14.4 , Python 2.6.0, Ruby on Rails 2.1, openJDK 1,2b11, Perl 5.10.0, Qt 4.4.3 ইত্যাদি।

ডেক্সটপ ভার্চুয়ালাইজেশন

  • ডেক্সটপ ভার্চুয়ালাইজেশন বা একটি অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে আরেকটি অপারেটিং সিস্টেম চালানো বা অনেকগুলো ওএস চালানো আজকাল সাধারণ ব্যাপার হয়ে গিয়েছে ডেকস্টপ ভার্চুডালাইজেশনের জন্য ওপেনসুসিতে দেয়া হয়েছে জনপ্রিয় ডেক্সটপ ভার্চুয়ালাইজেশন সফটওয়্যার Virtual Box 2.0.6 , KVM 78 এবং XEN 3.3.1

এছাড়াও অন্যান্য আপডেটের মধ্যে রয়েছে · Linux kernel 2.6.27.7, X.Org 7.4, PulseAudio 0.9.12 ও অন্যান্য সফটওয়্যার সমূহের আপডেটেড ভার্সন।

তাহলে বুঝতে পারছেন তো কেন ওপেনসুসি লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনটি আমার এত প্রিয় 🙂

সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টঃ

Processor: Intel—Pentium 1-4 or Xeon; AMD—Duron, Athlon, Athlon XP, Athlon MP, Athlon 64, Sempron or Opteron

  • Main memory: At least 256 MB; 512 MB recommended

  • Hard disk: At least 500 MB for minimal system; 3 GB recommended for standard system

  • Sound and graphics cards: Supports most modern sound and graphics cards

  • DVD-ROM Drive (required for installation from DVD media)

powered_by_opensuse_kde_suse

ওপেনসুসি ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন http://software.opensuse.org/

রেফারেন্সঃ

http://en.wikipedia.org/wiki/OpenSUSE_Project

http://en.opensuse.org/Featurelist_11.1

http://news.opensuse.org/2008/12/18/opensuse-111-released/

http://news.opensuse.org/category/sneak-peeks/

arstechnica.com

http://news.softpedia.com/news/openSUSE-11-1-Is-Here-100408.shtml

http://ostatic.com/blog/leapin-lizards-opensuse-jumps-to-11-1-tomorrow

সৌজন্যেঃ http://mukto.org

ইশতিয়াক আহমেদ (ফয়সাল)

অনলাইন ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আয় করুন ঘরে বসেই

আউটসোর্সিং বলতে আমরা মুলত বুঝি যখন একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান আর কাজসমূহ তুলনামূলক কম খরচে বা সস্তায় করার জন্য কাজ গুলো অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের প্রতিষ্ঠান বা জনশক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে করে থাকে তাকে।
এরফলে একদিকে ক্লায়েন্ট যেমন কম খরচে কাজকরিয়ে নিয়ে লাভবান হয় অন্যদিকে উক্ত দেশেরও এর মাধ্যমে বৈদেশীক মুদ্রা আয় হয়। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে আপনি ঘরেই ইন্টারনেটে বসে ফ্রি ল্যান্স কাজ করে আয় করতে পারেন। এধরনের ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং কাজের সহায়তার জন্য বেস কিছূ সাইট গড়ে উঠেছে।
যেমনঃ
http://www.joomlancers.com – এতে শুধু ওপেনসোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম জুমলার কাজ পাওয়া যায়

www.getafreelancer.com – এই সাইটে রয়েছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অসংখ্য কাজ। এখানে আপনি বিভিন্ন ক্যাটাগরির কাজ পাবেন যেমন ডাটা এন্ট্রি,ওয়েব ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিকসডিজাইনিং, এনিমেশন সহ জুমলায় ওয়েবডেভলপমেন্টের কাজ।কাজ পেতে হলে আপনাকে প্রথমে উক্ত সাইটে রেজিষ্টার করতে হবে। তারপর আপনি করতে পারবেন এমন কাজ গুলোর জন্য বিড করতে হবে, বিড করলে ক্লায়েন্ট বুঝবে যে আপনি সেই কাজ করতে ইচ্ছুক , এখন ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে সেই কাজের জন্য যোগ্য মনে করে তাহলে সে কাজটা আপনাকে করতে দেবে। আর সাধারন মেম্বারদের কাজ হতে প্রাপ্ত অর্থের ১০ শতাংশ সাইটটির সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিতে হবে। তবে গোল্ড মেম্বারদের এই চার্জ নেই , তাদের শুধু মাসে ১২ ডলার দিতে হবে।
দেশীয় আইটি পত্রিকা কম্পিউটার জগতে এ বিষয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন দিয়েছে এখান থেকে দেখতে পারেন।কাজ করার পর এখান থেকে টাকা কয়েক ভাবে পাওয়া যাবে। একটি হল ব্যাংক টু ব্যাংক ওয়্যার ট্রান্সফার , যার জন্য আপনার কোন ব্যাংকে একটি সেভিংস এক্যাউন্ট থাকলেই হল। আরেকটি হল Payoneer ডেবিট কার্ড
এটি getafreelancer.com ই দিয়ে থাকে তবে এটি অর্ডার করতে হলে আপনার getafreelancer.com এর একাউন্টে কমপক্ষে 30$ থাকতে হবে। এই পদ্ধতিতে আপনি অর্থ কুব দ্রুত পৃথিবীর যেকোন স্থান থেকে এটিএম এর মাধ্যমে তুলতে পারবেন। কার্ড পাবার পর সেটি একটিভেট করতে কিছু টাকা খরচ হবে।

আমি এ নিয়ে একটি ফোরামে পোষ্ট করেছি । এখানে দেখতে পারেন

Harddisk Partitioning using Parted Magic

হার্ডডিস্ক পার্টিশনিং হচ্ছে আপনার হার্ডডিস্ক কে কয়েকটি ভাগ করা।অর্থাৎ আপনার কম্পিউটার বুঝবে আপনার হার্ডডিস্কটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত । এর ফলে আপনি একটি পার্টিশনে আপনার ওএস টি ইনস্টল করে অন্য পার্টিশনে রাখতে পারেন। Non-technical user বা যে সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারী কম্পিউটার চালনায় খুব একটা অভিজ্ঞ নয় তারা হার্ডডিস্ক পার্টিশনিং ব্যাপারটাকে ভয় পেয়ে থাকে, এইবুঝি তাদের মুল্যবান ডাটা মুছে গেল। ব্যাপারটি লিনাক্স ইনস্টলের সময়ও ঘটে থাকে। যেমন লিনাক্সের জন্য ext3 পার্টিশন তৈরী করতে হয়। অনেকে হার্ডডিস্ক পার্টিশন করতে গিয়ে ভূল বসত নিজের ডাটাফাইল সমূহ মুছে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যবহারবান্ধব একটি ডিস্ক পার্টিশনিং সফটওয়্যার রয়েছে যার নাম হচ্ছে “নরটন পার্টিশন ম্যাজিক” তবে এটি ফ্রি নয়। তবে এমন একটি ব্যাবহার বান্ধব ফ্রি ও ওপেনসোর্স হার্ডডিস্ক পার্টিশনিং সফটওয়্যার রয়েছে যার নাম Gnome Partition Editor বা সংক্ষেপে “GParted“এটি বিভিন্ন ফাইলসিস্টেমের পার্টিশন তৈরী করতে পারে ext2,ext3,fat16,fat32,hfs,jfs,linux-swap,ntfs,reiserfs,reiser4,xfs লিনাক্সের ক্ষেত্রে ext3 পার্টিশন তৈরী করতে হয়। আপনারা কেউ যদি পূর্বে উবুন্টুলিনাক্স ইনস্টল করে থাকেন তবে ইনস্টলের সময় যে হার্ডডিস্ক পার্টিশন টুল ব্যবহার করা হয় সেটি হল “GParted“। আর এই “GParted” এর উপর ভিত্তি করে আরেকটি ডিস্ক পার্টিশন টুল তৈরী হয়েছে যার নাম হল ”

Parted Magic

মজার ব্যাপার হল এটি চালাতে আপনার কোন অপারেটিং সিস্টেমের উপর নির্ভর করতে হবেনা কারন এটিই একটি ছোটখাটো লাইভ অপারেটিং সিস্টেমের মত যেটি সিডি থেকে বা ইউএসবি ড্রাইভ থেকে বুট করা যায়। এতে ডিস্ক পার্টিশনিং টুল “GParted” ছাড়াও আরও নানান টুল রয়েছে ।

এবার দেখা যাক কিভাবে এর দ্বারা হার্ডডিস্ক পার্টিশন করা যায়। এজন্য আপনাকে “Parted Magic” এর iso ইমেজ ডাউনলোড করতেহবে। তারপর এই ইমেজটি সিডি রাইটিং সফটওয়্যার দ্বারা বার্ন করতে হবে অর্থাৎ .iso ডিস্ক ইমেজটিকে শুধু সিডিতে কপি করলে কাজ হবেনা সিডি রাইটিং সফটওয়্যার গুলোতে একটি অপশন থাকে যার মাধ্যমে .iso এর মত ডিস্ক ইমেজকে বার্ন করা যায়। বার্ন করা হলে বুটেবল সিডি তৈরী হবে । আপনি সিডিটি কোন একটি ড্রাইভে ঢুকিয়ে কম্পিউটার রিস্টার্ট দিয়ে বায়োস থেকে কোন সিডিরম থেকে বুট হবে তা নির্দিষ্ট করেদিন। তার পর পার্টেড ম্যাজিক সিডি থেকে বুট করুন। বুট হলে নিম্নোক্ত অপশন সমূহ মনিটরে ভেসে উঠবে

এখান থেকে 1 নং অপশন টি সিলেক্ট করে এন্টার দিন তবে পার্টেড ম্যাজিক লোড হবে । একপর্যায়ে সিডিটি বের হয়ে আসবে। এখন পার্টেড ম্যাজিক আপনার র্যাম থেকে লোড হবে তাই সিডিটির আর প্রয়োজন হবেনা। তারপর পার্টেড ম্যাজিক এর ডেস্কটপ এমনটি দেখা যাবে

এটি আপনার হার্ডওয়্যার , হার্ডডিস্ক , ইউএসবি ড্রাইভ সমূহ ডিটেক্ট করে ডেক্সটপে ড্রাইভ গুলো দেখাবে। মনে রাখবেন আপনার পার্টিশন গুলো উইন্ডোজের মত C,D,F ড্রাইভ নাতে দেখাবেনা । এখানে hda,hdb1,hdb2 ,hdb5 এভাবে দেখাবে ড্রাইভ গুলো।

[ উল্ল্যেখ্যঃ
primary Maste = hda
primary slave = hdb
Secondary Master = hdc
Secondary slave = hdd
]

এখন কিভাবে বুঝবেন কোনটা আপনার ড্রাইভ?

ধরুন আপনার আমার মত লিনাক্সের পার্টিশন গুলো বাদে মোট ৮ টি পার্টিশন আছে।

তবে C drive টি হবে = hdb1
D drive = hdb5 [ C drive এর পরের ড্রাইভ গুলো শুরু হবে hdb5 থেকে ]

এরপর বাকি গুলো যথাক্রমে
E drive = hdb6
F drive = hdb7
G drive = hdb8
H drive = hdb9
I drive = hdb10
J drive = hdb11

ধরুন আমার একটি পার্টিশনের ৬গিগার মত ফ্রি স্পেস আছে এখন আমি ফ্রি স্পেসটিকে লিনাক্স ইনস্টলের জন্য ext3 পার্টিশন তৈরী করবো। তাই আমি সেই পার্টিশনটিতে রাইট ক্লিক করে Resize/Move অপশন টি সিলেক্ট করলাম।


তারপর পরবর্তী উইন্ডোতে আমি Free Space Following : এ কতটুক যায়গা আমার খালি করা দরকার না উল্যেখ করে দিলাম। তার পর Resize/Move বাটনে ক্লিক করলে উল্ল্যেখিত ডিস্ক স্পেস খালি হবে অর্থাৎ unallocated হিসেবে দেখাবে। ভয় নেই এতে আপনার উক্ত ড্রইভের ফাইল গুলো মুছে যাবেনা যতক্ষন না আপনি তা ফরমেট করছেন।

মনে রাখবেন আমি এখন যেকাজ গুলো করছি তা সম্পন্ন হবে না যতক্ষন না আমি উপরের Apply বাটনে ক্লিক করছি। এগুলো আপাতত টাস্ক হিসেবে জমা হচ্ছে যা উইন্ডোর নিচের অংশে দেখা যাচ্ছে।


এবার unallocated স্পেসটি রাইটক্লিক করে New এ ক্লিক করলাম

তারপর পরবর্তী উইন্ডোতে New Size এ পার্টিশন এর আকার নির্দেশ করে দিলাম (এখানে ১০২৪ মেগাবাইট = ১ গিগাবাইট) তার পর ফাইল সিস্টেম থেকে লিনাক্সের ফাইল সিস্টেম ext3 সিলেক্ট করে দিলাম। তারপর Add এ ক্লিক করি।

এবার আগের মতই অবশিষ্ট ৪০০ এমবি স্পেসটি রাইটক্লিক করে New এ ক্লিক করলাম এবং এখানে শুধুমাত্র File System থেকে linux-swap সিলেক্ট করেদিলাম (উল্ল্যেখ্য linux-swap হল উইন্ডোজের pagefile এর মত যা মূল ram থেকে চাপ কমিয়ে নির্দিষ্ট হার্ডডিস্ক স্পেস কে সহকারী হিসেবে ব্যাবহার করে)

এবার চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন 3 operation pending অর্থাৎ আমি এতক্ষন যে কাজ গুলো করার নির্দেশ দিলাম তা এখনো সম্পন্ন হয়নি অর্থাৎ আমি এখন চাইলে edit মেনু থেকে undo এর মাধ্যমে কোন অপারেশন বাদদিতে পারি। এবার উপরের Apply বাটনে ক্লিক করলে টাস্ক গুলো সম্পন্ন হওয়া শুরু হবে।

উক্ত টাস্ক গুলো সম্পন্ন হবার পর দেখাবে “All operations successfully completed” তো লিনাক্সের জন্য আমি পূর্বেই পার্টিশন গুলো তৈরি করে ফেললাম।

দেখলেন তো “Parted Magic” দিয়ে হার্ডডিস্ক পার্টিশন করা কত সহজ।

তো এবার জোরসে বলুন Opensource Rulzzzz…. 😉

ইশতিয়াক আহমেদ (ফয়সাল)

http://mukto.org

মু্ক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পরিকল্পনা

আজ আমি যে বিষয় নিয়ে লিখছি সেটি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভাবছিলাম। একমাত্র তাদের জন্যই আজ আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন মাটিতে দাড়িয়ে আছি , দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে জীবন মৃত্যুর চিন্তাভাবনা না করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া অনেক বড় ব্যাপার। অথচ তারা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে যে বাংলাদেশকে পাবার স্বপ্ন দেখেছিলেন আমরা কি তাদের সেই বাংলাদেশ দিতে পেরেছি!!?? তারা দেশ কে স্বাধীন করে গেছেন কিন্তু সেই দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাবার দ্বায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের। স্বাধীনতার প্রায় ৩৭ বছর পার হতে চলল……এরমধ্যে কিছূ কিছূ ঘটনা ঘটে গেছে যা যারা দেশকে ভালোবাসে তাদের জন্য তা পীড়াদায়ক। দূর্নীতিতে আমরা চ্যাম্পিয়ন, আরও পীড়াদায়ক আমাদের দেশের মানুষই অন্যের উসকানিতে গার্মেন্স শিল্পের মত বৃহৎ শিল্পকে ধ্বংষের পায়তারা করেছিল একসময়। একাধারে বিভিন্ন গার্মেন্টসে ভাংচুর করা ভুলে যাননি নিশ্চয়। আজ একাত্তুরের রাজাকারেরা বুকচিতিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলে। মুক্তিযোদ্ধারা বুঝতে পেরেছেন যে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। আমাদের প্রজন্মের এখন উচিত তাদের পাশে এসে দাড়ানো।

এখন আসি মূল বিষয়ে। আমি বেশ কিছুদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটা কিছু করার পরিকল্পনা করছিলাম। পরিকল্পনাটা কিছুটা দাড় করানোর পর আজ ব্লগে লিখছি

পরিকল্পনাটা হল আমার ইচ্ছা আছে দেশের ‘যত’ মুক্তিযোদ্ধা আছেন তাদের ব্যাক্তিগত ভাবে সাক্ষাতকার নেয়া। তারা কিভাবে সাধারন একজন মানুষ থেকে মুক্তি যোদ্ধা হলেন, যুদ্ধ করলেন , দেশ স্বাধীন করলেন , দেশের মানুষের প্রতি তার কি বলার আছে এগুলোর ভিডিও করে সাক্ষাতকারটি সংরক্ষন করা। এভাবে একে একে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গিয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী তাদের জীবনের কাহিনী, তারা এখন কেমন আছেন এসকল বিষয় ভিডিও করে তা যথাযথ ভাবে সংরক্ষন করা।

এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য:

১) দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জীবন কাহিনী ক্যামেরার ফ্রেমে বন্ধী করা

২) আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিভাবে জানছি? বই পড়ে, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গিয়ে…
তবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের কথা স্বয়ং একজন মুক্তি যোদ্ধার কাছ থেকে শুনতে পারে জানতে পারে তাহলে তারা মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কে আরো ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পারবে। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে দেশপ্রেমের মনোভাব সৃষ্টি করা যাবে।

৩) আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরত্বের কাহিণী দেশের মানুষের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরা যাবে।

সাক্ষাৎকার নেয়ার পর পরবর্তী পরিকল্পনা গুলো হল

১) সাক্ষাতকারের ভিডিও গুলো যথাযথ সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা।

২) ভিডিও সংগ্রহের পর বক্তব্যগুলোর ইংরেজী সাবটাইটেলের ব্যবস্থা করা । যাতে ভিন্ন ভাষাভাষীর বা বহির্বিশ্বের মানুষ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বিরত্বের কাহিনী জানতে পারে।

৩) সাক্ষাৎকারের ভিডিওকে সিডি আকারে প্রকাশ করা বা দেশের মানুষকে তা দেখানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা। এক্ষেত্রে কোন অর্থ প্রাপ্ত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানের কাজে ব্যায় করা হবে।

৪) সিডির পাশাপাশি এই ভিডিও ইন্টারনেটে ও ছাড়া যেতে পারে যাতে বিশ্বের যেকোন স্থানে বসেই এই ভিডিও সংগ্রহ করা যায়।

এই হল এতদিন ভেবেচিন্তে করা আমার পরিকল্পনা। এখন এব্যাপারে আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রাইলাম……..

ধন্যবাদ
__________