FirstVoter

এই বারই প্রথম ভোটার হলাম। ভালোই লেগেছিল প্রথমবার ভোট দেব ভেবে।

তবে এখন ভাবছি ভোট দেবনা।

কারণ বর্তমানের প্রধান দল দুটোর কোনটিকেই আমি আমার ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে চাইনা।

কারন দু নেত্রীই দুটি জমজ বিড়াল। তাদের স্বভাব একই রকম এবং দেশ পরিচালনার চেয়ে তারা একে অপরকে খামচা – খামচি করতে ব্যাস্ত।

আর আরেকটা দলের আদর্শ কথাবার্তা কিছুটা ব্যাতিক্রম মনে হয়েছিল তা হল বি . চৌধুরীর দল। ভেবেছিলাম এবার প্রথম ভোট তাদেরকেই দেব। তবে তারা মহাজোটের সাথে মিলত হবার পর এখন তাদের কে ভোট দেবার প্রশ্নই ওঠেনা। কারন হচ্ছে মহাজোট বা আওয়ামীলীগ এর ফতোয়া বৈধ করার ঘোষনা।আমি এর বিরুদ্ধে। কারন বাংলাদেশ হচ্ছে অসাম্প্রদায়ীক দেশ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে বাস করে। তাই এখানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা ধর্মের আইন থাকা সঠিকনয়। তবে বাংলাদেশ আফগানীস্থান  বা পাকিস্তানের মত পুরোপুরি মুসলীম প্রধান দেশ হলে ভিন্ন কথা ছিল।

আমাদের দেশে রাজনীতি একটা ব্যাবসা হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন রাজনীতি তে আসে লক্ষ কোটি টাকা ইনভেস্ট করে। তারপর ক্ষমতায় এলে বৈদেশীক রৃন , দান-খয়রাত করা অর্থ পকেটস্থ করে।

কাঠামো টা এমন হয়ে গিয়েছে যে হাসিনা খালেদার বংশধররাই সবসময় মূল ক্ষমতায় থাকবে। দেশসেবার আদর্শ নিয়ে কোন দল আসলেও এরকম জোট মহাজোটের সাথে যুক্ত হতে হবে। দল প্রধান না চাইলেও নিজদলের কর্মীদের চাপে নিশ্চই।

তবে আমরা যেমন চাই তেমন ভাবে দেশকে দেখতে পাবোনা?

পারতাম আমরা যদি প্রতিটা দূর্নীতি প্রতিটা অনিয়মের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতাম। তবে দূঃখের বিষয় মুক্তিযুদ্ধের ৩৫ বছরে অনেক বদলে গেছি আমরা , আমাদের মধ্যে প্রতিবাদ করার মত একতা বদ্ধতা দেখাযায়না যতক্ষন না কানসাটের মত পানি গলা পর্যন্ত উঠে আসে। আরো দূঃখের বিষয় আমাদের মধ্যে দেশদ্রোহীতার জন্ম নিয়েছে। যা কিছুদিন আগে আমাদের পোশাকশিল্প ধ্বংস করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। ভাবা যায় কোন বিদেশী নয় নিজ দেশের মানুষ তা করছে। এটা কে আমি দেশদ্রোহীতাই মনে করি।

এজন্যই কি মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন নিজের রক্ত,জীবন দিয়ে। আজ ও নিজামীর মত রাজাকার আমাদের পতাকাবাহী গাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। ধর্মকে পূঁজি করে এই দুমুখো সাপ এখনো টিকে আছে বহাল তবিয়তে। ফতোয়াকে বৈধ করার ঘোষনা শুনেও আমরা তেমন কোন প্রতিবাদ জানাই না। আজকের পুলিশেরা একাত্তুরের হানাদারের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

আমার মতে যেকোন সরকারের উচিৎ মুক্তিযোদ্ধাদের কে জিজ্ঞেস করা তারা দেশকে কেমন দেখতেচান। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া। কারন এই দেশ টা তো তাদের ই দেওয়া। তাদের রক্ত জীবনের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি।

বেশ কিছু দিন ধরে এই বিষয়গুলী মাথায় ঘুরছিল। তাই ব্লগে লেখলাম।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s